Oxygen Therapy
অক্সিজেন থেরাপি হলো একটি চিকিৎসাপদ্ধতি যার মাধ্যমে ফুসফুস বা রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি মেটাতে রোগীকে কৃত্রিম উপায়ে বা অতিরিক্ত অক্সিজেন প্রদান করা হয় [২৫]। এটি মূলত COPDনিউমোনিয়াকোভিড-১৯ বা শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য ব্যবহৃত হয়যা হার্টের কাজের চাপ কমায় এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে [৪১০১১]।
মূল তথ্যাদি:
- কেন প্রয়োজন: শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা বা রক্তের অক্সিজেন লেভেল (Hypoxemia) কমে গেলে এই থেরাপি দেওয়া হয় [২৫]।
- ব্যবহারের মাধ্যম: নাক দিয়ে (Nasal cannula)মাস্ক (Mask)বা ইনকিউবেটরের মাধ্যমে এই অক্সিজেন দেওয়া হয় [৩৯]।
- উৎস: অক্সিজেন ট্যাংকসিলিন্ডার অথবা অক্সিজেন কনসেনট্রেটর (Concentrator) থেকে এই অক্সিজেন সরবরাহ করা হয় [৩৬]।
- সতর্কতা: এটি সবসময় চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী নেওয়া উচিতকারণ ভুল মাত্রার অক্সিজেন শরীরের ক্ষতি করতে পারে [৬১২]।
কেন অক্সিজেন থেরাপি দেওয়া হয়?
১. শ্বাসকষ্ট দূর করতে: ফুসফুস ঠিকমতো কাজ না করলে [৫]।
২. অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সচল রাখতে: রক্তে অক্সিজেন কমে গেলে মস্তিষ্কহার্ট ও কিডনির ক্ষতি হতে পারেযা প্রতিরোধ করে [১৩]।
৩. দীর্ঘস্থায়ী রোগে: যেমন- সিওপিডি (COPD)পালমোনারি ফাইব্রোসিস বা হার্ট ফেইলিওর [৪]।
এই চিকিৎসা হাসপাতালে বা বাড়িতে (Home Oxygen Therapy) দেওয়া সম্ভব [৩৬]।
Pulse Oximeter দিয়ে অক্সিজেন পরিমাপ করতে হবে
পালস অক্সিমিটার (Pulse Oximeter) দিয়ে সঠিকভাবে শরীরের অক্সিজেনের মাত্রা এবং পালস রেট পরিমাপ করা খুব সহজ, তবে সঠিক ফলাফল পেতে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
নিচে ধাপে ধাপে পদ্ধতিটি দেওয়া হলো:
১. প্রস্তুতি
- বিশ্রাম নিন: পরিমাপ করার আগে অন্তত ৫-১০ মিনিট শান্ত হয়ে বসুন। হাঁটাচলা বা পরিশ্রম করার পরপরই রিডিং নেবেন না।
- হাত পরিষ্কার ও উষ্ণ রাখুন: হাত যদি খুব ঠান্ডা থাকে, তবে রক্ত সঞ্চালন কম হতে পারে, ফলে রিডিং ভুল আসতে পারে। হাত ঘষে কিছুটা গরম করে নিন।
- নখ পরিষ্কার রাখুন: আঙুলে নেলপলিশ বা কৃত্রিম নখ থাকলে অক্সিমিটারের আলো বাধাগ্রস্ত হয়। তাই নেলপলিশ তুলে ফেলা ভালো।
২. সঠিক আঙুল নির্বাচন
- সাধারণত মাঝখানের আঙুল (Middle finger) বা তর্জনী (Index finger) ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো।
- আঙুলটি যেন সোজা থাকে এবং অক্সিমিটারের ভেতরে সেন্সরের ওপর ঠিকমতো বসে।
৩. ব্যবহারের নিয়ম
- অক্সিমিটারটি চালু করুন।
- আঙুলটি অক্সিমিটারের ভেতরে প্রবেশ করান।
- হাতটি স্থির রাখুন (বুকের কাছে ধরে রাখতে পারেন)। পরিমাপ চলাকালীন কথা বলবেন না বা হাত নাড়াবেন না।
- স্ক্রিনে রিডিং স্থির হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন (সাধারণত ৩০-৬০ সেকেন্ড)।
৪. ফলাফল বোঝা
অক্সিমিটারের স্ক্রিনে সাধারণত দুটি সংখ্যা দেখা যায়:
| সংকেত | পূর্ণ রূপ | সাধারণ মাত্রা (Normal Range) |
|---|---|---|
| SpO2 | Oxygen Saturation | ৯৪% থেকে ১০০% (এটিই আপনার অক্সিজেন মাত্রা) |
| PR bpm | Pulse Rate | ৬০ থেকে ১০০ (প্রতি মিনিটে হার্টবিট) |
SpO2 কি
SpO2 বা অক্সিজেন স্যাচুরেশন (Peripheral Oxygen Saturation) হলো রক্তে অক্সিজেন বহনকারী হিমোগ্লোবিনের শতাংশের পরিমাপ। এটি শরীরের কোষগুলিতে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছাচ্ছে কি না তা নির্দেশ করেযা পালস অক্সিমিটারের সাহায্যে মাপা হয়। সুস্থ মানুষের জন্য সাধারণত ৯৫-১০০% SpO2 স্বাভাবিক বলে গণ্য করা হয় [১২৭১০]।
SpO2 সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
- স্বাভাবিক মাত্রা: ৯৫% থেকে ১০০% [১১২]।
- কম মাত্রা (হাইপোক্সেমিয়া): ৯৫% এর নিচে (বিশেষ করে ৯০% এর কম হলে) তা সতর্কতার লক্ষণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন [৭১২]।
- পরিমাপের মাধ্যম: পালস অক্সিমিটারের মাধ্যমে এটি হাতের আঙুল বা কানের লতিতে বসিয়ে সহজেই পরিমাপ করা যায় [১০১১]।
- কেন কমে যায়: ফুসফুসের রোগ (যেমন- কোভিড-১৯)শ্বাসকষ্টবা উচ্চ উচ্চতায় শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হলে SpO2 কমতে পারে।
- ভুল রিডিংয়ের কারণ: নেলপলিশঠান্ডা হাতনড়াচড়া করা বা নিম্নমানের অক্সিমিটারের কারণে ভুল রিডিং আসতে পারে।
SpO2 এর গুরুত্ব: এটি শরীর কতটা কার্যকরভাবে অক্সিজেন সরবরাহ করছে তা বুঝতে এবং শ্বাসযন্ত্রের যেকোনো জরুরি অবস্থা দ্রুত শনাক্ত করতে সাহায্য করে।
অক্সিজেন সিলিন্ডারের সাথে কি কি সংযুক্ত থাকে?
একটি অক্সিজেন সিলিন্ডারের সাথে সাধারণত প্রেসার রেগুলেটরফ্লো মিটার (কতটুকু অক্সিজেন যাচ্ছে তা দেখার জন্য)হিউমিডিফায়ার বোতল (অক্সিজেন আর্দ্র করার জন্য)মাস্ক বা নাজাল ক্যানুলা (নাকে লাগানোর জন্য) এবং সিলিন্ডারের ভালভ খোলার জন্য চাবি (Wrench) সংযুক্ত থাকে [১২৫৬]। এই অংশগুলো উচ্চচাপের অক্সিজেনকে নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য করে রোগীর কাছে পৌঁছে দেয় [৪৭]।
অক্সিজেন সিলিন্ডারের প্রধান আনুষাঙ্গিক উপাদানসমূহ:
- সিলিন্ডার বডি (Cylinder Body): এটি ইস্পাত বা অ্যালুমিনিয়ামের তৈরিযার ভেতরে উচ্চচাপে অক্সিজেন সংকুচিত করে রাখা হয় [৫৭]।
- ভালভ (Valve): সিলিন্ডারের উপরে থাকেযা গ্যাস সিলিন্ডার থেকে বের হতে বা বন্ধ করতে সাহায্য করে [৫]।
- প্রেসার গেজ (Pressure Gauge/Regulator): এটি সিলিন্ডারে কতটুকু অক্সিজেন বাকি আছে তা দেখায় এবং উচ্চচাপকে কমিয়ে ব্যবহারের নিরাপদ স্তরে আনে [২৫৬]।
- ফ্লো মিটার (Flow Meter/Regulator): এর মাধ্যমে মিনিটে কত লিটার অক্সিজেন (LPM) বের হবে তা নিয়ন্ত্রণ করা হয় [৫৬]।
- হিউমিডিফায়ার বোতল (Humidifier Bottle): এটি অক্সিজেনের সাথে জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতা যোগ করেযাতে রোগীর গলা বা নাকের ভেতর শুষ্ক না হয়ে যায় [৫১৪]।
- নাজাল ক্যানুলা বা মাস্ক (Nasal Cannula/Mask): এটিই মূল অংশ যার মাধ্যমে রোগী অক্সিজেন গ্রহণ করেযা নলের মাধ্যমে ফ্লো মিটারের সাথে যুক্ত থাকে [৬১০]।
- সিলিন্ডার চাবি (Cylinder Wrench): এটি দিয়ে সিলিন্ডারের ভালভ বা চাকা ঘোরানো হয় [১]।
নিরাপদ ব্যবহারের জন্য এই আনুষাঙ্গিক যন্ত্রাংশগুলো ঠিকঠাক সেট করা এবং অক্সিজেন ফ্লো সঠিক মাত্রায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ [৪৬]।
Pressure Gauge/Regulator কি ?
প্রেসার রেগুলেটর (Pressure Regulator) হলো একটি যান্ত্রিক ভালভ যা উচ্চ চাপের গ্যাস বা তরলকে নিরাপদস্থিতিশীল এবং কম আউটপুট চাপে রূপান্তর করেআর প্রেসার গেজ (Pressure Gauge) হলো সেই সিস্টেমের ভেতরের চাপের পরিমাণ পরিমাপক বা নির্দেশক যন্ত্র [১৩]। রেগুলেটর চাপ নিয়ন্ত্রণ করেআর গেজ শুধু চাপ প্রদর্শন করে [২]।
প্রেসার রেগুলেটর (Pressure Regulator):
- কাজ: সিলিন্ডার বা পাইপলাইনের উচ্চ ইনলেট চাপকে কমিয়ে কাজের উপযোগী প্রয়োজনীয় আউটপুট চাপ বজায় রাখে [৩]।
- ব্যবহার: গ্যাস সিলিন্ডারওয়েল্ডিংএয়ার কম্প্রেসর এবং শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত হয় [৬৭]।
- প্রকারভেদ: এটি সাধারণত ডায়াফ্রামস্প্রিং এবং ভালভ সমন্বিত মেকানিক্যাল ডিভাইস [৪]।
প্রেসার গেজ (Pressure Gauge):
- কাজ: সিস্টেমে বর্তমানে কত চাপ (Pressure) আছেতা নির্দেশ করে [২]।
- গুরুত্ব: রেগুলেটরের ওপর থাকা গেজগুলো সিলিন্ডারের ভেতরের চাপ (উচ্চ চাপ) এবং ব্যবহারের চাপ (কম চাপ) নির্দেশ করে নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করে [১১]।
মূল পার্থক্য:
- রেগুলেটর চাপ নিয়ন্ত্রণ বা কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয় (Control) [২]।
- গেজ চাপ পরিমাপ বা দেখার জন্য ব্যবহৃত হয় (Display) [২]।
রেগুলেটরে সাধারণত দুটি গেজ থাকে: একটি ট্যাংকের ভেতরের উচ্চ চাপ দেখায়অন্যটি আউটপুটের নিয়ন্ত্রিত কম চাপ দেখায় [১০]।
Oxygen Flow Meter/Regulator কি ?
Oxygen Flow Meter/Regulator হলো একটি জরুরি চিকিৎসাসরঞ্জামযা অক্সিজেন সিলিন্ডার বা সেন্ট্রাল লাইন থেকে রোগীর শরীরে অক্সিজেন প্রবাহের চাপ কমিয়ে (Regulator) এবং সঠিক পরিমাণে (Flow Meterসাধারণত লিটার/মিনিট বা LPM-এ) অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে। এটি উচ্চচাপের অক্সিজেনকে নিরাপদ মাত্রায় নামিয়ে আনে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্লো কন্ট্রোল নব (Knob) দিয়ে অক্সিজেন প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে [২৩৬]।
মূল বৈশিষ্ট্য ও কার্যাবলী:
- চাপ নিয়ন্ত্রণ (Regulator): সিলিন্ডারের উচ্চচাপের (প্রায় ২০০০-৩০০০ psi) অক্সিজেনকে ব্যবহারের উপযোগী নিরাপদ চাপে (সাধারণত ৫০ psi) কমিয়ে আনে [১৫]।
- প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ (Flow Meter): এটি একটি স্কেলযুক্ত টিউবযার মাধ্যমে প্রতি মিনিটে কত লিটার (LPM) অক্সিজেন যাচ্ছে তা পরিমাপ ও নিয়ন্ত্রণ করা যায় [১৩১৪]।
- ব্যবহার: সাধারণত হাসপাতালে বা বাড়িতে অক্সিজেন থেরাপির সময় সিলিন্ডারের উপরে এটি সংযুক্ত থাকে [৩৪]।
- হিউমিডিফায়ার সংযোগ: এর সাথে প্রায়শই একটি পানির বোতল (Humidifier) থাকেযা অক্সিজেনকে আর্দ্র বা ভেজা করে রোগীর শ্বাসকষ্ট কমায় [১৪]।
এটি সাধারণত ০-১৫ LPM পরিসরে অক্সিজেন সরবরাহ করতে সক্ষম [১]।
Humidifier Bottle কি ?
Humidifier Bottle হলো একটি বিশেষ মেডিকেল ডিভাইস যা সাধারণত অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটরের সাথে ব্যবহৃত হয়যার মাধ্যমে রোগীকে আর্দ্র বা ভেজা অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়। এটি শুষ্ক অক্সিজেনকে পানির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত করে আর্দ্র করেযা রোগীর নাকগলা এবং শ্বাসনালী শুষ্ক হয়ে যাওয়া বা জ্বালাপোড়া প্রতিরোধ করে [১৫৬]।
Humidifier Bottle-এর প্রধান বৈশিষ্ট্য ও কাজ:
- আর্দ্রতা প্রদান: এটি অক্সিজেনকে আর্দ্র করেযা দীর্ঘক্ষণ অক্সিজেন থেরাপি নেওয়ার সময় শ্বাসনালীর শুষ্কতা দূর করে [৫৯]।
- পানিতে পূর্ণ: এই বোতলে ডিস্টিল্ড ওয়াটার (Distilled water) বা জীবাণুমুক্ত পানি রাখা হয় [৫]।
- গঠন: এতে পানির লেভেল দেখার জন্য নির্দেশক (Maximum/Minimum limit) থাকে এবং এটি সাধারণত স্বচ্ছ ও টেকসই প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি [৬১০]।
- ব্যবহার: এটি অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর বা সিলিন্ডারের সাথে সংযুক্ত থাকেযার ভেতর দিয়ে অক্সিজেন যাওয়ার সময় বাবল বা বুদবুদ তৈরি হয়ে আর্দ্র হয় [২৯]।
কেন এটি প্রয়োজন?
অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর থেকে আসা অক্সিজেন খুবই শুষ্ক হয়। সরাসরি এই অক্সিজেন দীর্ঘক্ষণ গ্রহণ করলে নাক ও গলায় জ্বালাপোড়ানাক দিয়ে রক্ত পড়া বা অস্বস্তি হতে পারে। হিউমিডিফায়ার বোতল ব্যবহারের ফলে এই সমস্যা দূর হয় এবং শ্বাস-প্রশ্বাস আরামদায়ক হয় [৫৯]।
Nasal Cannula/Mask কি ?
নাজাল ক্যানুলা (Nasal Cannula) এবং অক্সিজেন মাস্ক (Oxygen Mask) হলো চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত দুটি ভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম যা শরীরের টিস্যুতে অক্সিজেনের অভাব (Hypoxia) পূরণের জন্য ব্যবহৃত হয়।
১. নাজাল ক্যানুলা (Nasal Cannula)
এটি একটি পাতলা এবং নমনীয় প্লাস্টিকের নল যার অগ্রভাগে দুটি ছোট ছোট ছিদ্রযুক্ত প্রং (Prongs) থাকে।
- ব্যবহার পদ্ধতি: প্রং দুটি রোগীর নাকের ছিদ্রে প্রবেশ করানো হয় এবং টিউবটি কানের পাশ দিয়ে মাথার পেছনে বা চিবুকের নিচে আটকানো থাকে।
- অক্সিজেন প্রবাহ: এটি সাধারণত প্রতি মিনিটে ১ থেকে ৬ লিটার অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে।
- সুবিধা: এটি ব্যবহার করা বেশ আরামদায়ক। এটি পরে রোগী কথা বলতে পারেন, খাবার খেতে পারেন এবং পানি পান করতে পারেন।
- কারা ব্যবহার করেন: যাদের হালকা শ্বাসকষ্ট আছে বা দীর্ঘমেয়াদী অক্সিজেন সাপোর্টের (যেমন- COPD রোগী) প্রয়োজন হয়, তারা এটি ব্যবহার করেন।
২. অক্সিজেন মাস্ক (Oxygen Mask)
এটি প্লাস্টিক বা রাবার দিয়ে তৈরি একটি মুখোশ যা রোগীর নাক এবং মুখ সম্পূর্ণ ঢেকে রাখে।
- ব্যবহার পদ্ধতি: এটি একটি ইলাস্টিক ব্যান্ডের সাহায্যে মুখের ওপর শক্ত করে বসানো থাকে।
- অক্সিজেন প্রবাহ: মাস্কের প্রকারভেদে এটি সাধারণত প্রতি মিনিটে ৫ থেকে ১৫ লিটার পর্যন্ত উচ্চ মাত্রার অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে।
- প্রকারভেদ:
- সিম্পল ফেস মাস্ক: মাঝারি মাত্রার অক্সিজেনের জন্য।
- নন-রিব্রেদার মাস্ক: জরুরি অবস্থায় খুব উচ্চ ঘনত্বের অক্সিজেনের জন্য।
- ভেঞ্চুরি মাস্ক: যখন একদম সঠিক মাত্রায় (Precise) অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজন হয় (যেমন- শ্বাসতন্ত্রের বিশেষ সমস্যায়)।
- অসুবিধা: এটি পরে কথা বলা বা খাবার খাওয়া কঠিন এবং অনেকের কাছে এটি কিছুটা অস্বস্তিকর বা শ্বাসরোধকারী মনে হতে পারে।
মূল পার্থক্য একনজরে
| বৈশিষ্ট্য | নাজাল ক্যানুলা | অক্সিজেন মাস্ক |
|---|---|---|
| আকৃতি | নাকের ভেতরে ছোট টিউব | নাক ও মুখ ঢেকে রাখা মাস্ক |
| অক্সিজেন ফ্লো | ১-৬ লিটার/মিনিট (কম) | ৫-১৫ লিটার/মিনিট (বেশি) |
| খাবার/কথা বলা | সহজ ও স্বাভাবিক | কঠিন বা অসম্ভব |
| উপযোগিতা | হালকা শ্বাসকষ্টে | মাঝারি থেকে তীব্র শ্বাসকষ্টে |
রোগীর শারীরিক অবস্থা এবং অক্সিজেনের প্রয়োজনীয়তার ওপর ভিত্তি করে চিকিৎসক নির্ধারণ করেন কোনটি ব্যবহার করা প্রয়োজন।
অক্সিজেন ঘাটতি অনুসার অক্সিজেন থেরাপি
রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ৯০%-এর নিচে নামলে বা শ্বাসকষ্ট হলে চিকিৎসকের পরামর্শে কৃত্রিম অক্সিজেন সরবরাহ (অক্সিজেন থেরাপি) প্রয়োজন [৬১৩]। এটি মাস্ক বা নাকের ক্যানুলার মাধ্যমে দেওয়া হয়যা ফুসফুসের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং কোষকে সুস্থ রাখে [২১০]। গুরুতর হাইপোক্সিয়াস্ট্রোক বা দীর্ঘস্থায়ী রোগে এটি জীবন রক্ষাকারী [৫১৪]।
অক্সিজেন থেরাপির মূল দিকসমূহ:
- লক্ষ্য ও মাত্রা: সাধারণত
৯৪-৯৬%-এর মধ্যে রাখা লক্ষ্যতবে দীর্ঘস্থায়ী ফুসফুসের রোগীদের জন্য ৮৮-৯২% গ্রহণযোগ্য [১২]। ৯০%-এর নিচে নামলে দ্রুত অক্সিজেন থেরাপি জরুরি [১৩]।
- সরবরাহ মাধ্যম:
- নাসাল ক্যানুলা (Nasal Cannula): কম মাত্রায় অক্সিজেন দিতে [৭]।
- ফেস মাস্ক (Face Mask): বেশি ঘনত্বের অক্সিজেনের জন্য [২]।
- হাইপারবারিক চেম্বার: উচ্চ চাপে শতভাগ বিশুদ্ধ অক্সিজেন দেওয়া হয়যা কোষ পুনর্গঠনে কাজ করে [৮]।
- প্রয়োজনীয়তা: নিউমোনিয়াকোভিড-১৯হাঁপানিসিওপিডি (COPD)বা হৃদরোগের কারণে যখন শরীর নিজে যথেষ্ট অক্সিজেন পায় না [১১]।
- সতর্কতা: চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া অতিরিক্ত বা ভুল নিয়মে অক্সিজেন দেওয়া ক্ষতিকর (অক্সিজেন বিষাক্ততা) [৫১২]।
সঠিক অক্সিজেন থেরাপি শ্বাসকষ্ট ও অবসাদ কমিয়ে রোগীর জীবনের মান বৃদ্ধি করে [১০]।
অক্সিজেন থেরাপিতে অক্সিজেন ফ্লো বেশি হলে ক্ষতিসমূহ কি কি?
অক্সিজেন থেরাপিতে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অক্সিজেন ফ্লো (High-flow) বা দীর্ঘক্ষণ উচ্চ ঘনত্বের অক্সিজেন ব্যবহার করলে ফুসফুসের টিস্যু নষ্ট হওয়া (অক্সিজেন বিষক্রিয়া)শোষনকারী অ্যাটেলেক্টাসিস (ফুসফুসের সংকোচন)এবং সিওপিডি (COPD) রোগীদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধি বা কার্বন ডাই অক্সাইড জমার মতো মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে [২৮]। এছাড়াওনাক শুকিয়ে যাওয়ারক্ত পড়া এবং চোখে জ্বালাপোড়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে [৬৭]।
অক্সিজেন ফ্লো বেশি হলে প্রধান ক্ষতিকর প্রভাবসমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:
- ফুসফুসের বিষক্রিয়া (Oxygen Toxicity): দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ ঘনত্বের অক্সিজেন গ্রহণ করলে ফুসফুসে প্রদাহবুকে ব্যথা এবং কাশির মতো সমস্যা দেখা দেয়যা ফুসফুসের টিস্যু নষ্ট করতে পারে [১৮]।
- শোষণকারী অ্যাটেলেক্টাসিস (Absorption Atelectasis): অতিরিক্ত অক্সিজেন ফুসফুসের ছোট ছোট বায়ুথলিগুলোকে (alveoli) সংকুচিত করে দিতে পারেফলে ফুসফুস তার কার্যক্ষমতা হারায় [৮]।
- COPD রোগীদের শ্বাসকষ্ট: যেসব রোগী Chronic Obstructive Pulmonary Disease (COPD)-এ ভুগছেনতাদের অতিরিক্ত অক্সিজেন দিলে শরীর শ্বাস নেওয়ার সংকেত ভুলে যেতে পারেফলে রক্তে কার্বন ডাই অক্সাইড জমে গিয়ে মৃত্যুঝুঁকি পর্যন্ত হতে পারে [২৭]।
- নাক ও গলার শুষ্কতা: অতিরিক্ত অক্সিজেন ব্যবহারের ফলে নাকের ভেতর শুকিয়ে যাওয়াচুলকানিএমনকি নাক থেকে রক্ত পড়ার মতো সমস্যা হতে পারে [৬১৩]।
- দৃষ্টিশক্তির ক্ষতি: নবজাতকদের ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার অক্সিজেন থেরাপি চোখ অন্ধত্বের কারণ (Retinopathy of Prematurity) হতে পারে [৭]।
- কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের সমস্যা: খুব উচ্চ চাপে অক্সিজেন থেরাপি (Hyperbaric) দিলে খিঁচুনি বা মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে [৭১১]।
সতর্কতা: অক্সিজেন থেরাপি সবসময় ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ এবং সঠিক মাত্রায় (সাধারণত পালস অক্সিমিটার দিয়ে মেপে) ব্যবহার করা উচিত।
HRTD Medical Institute HRTD Medical Institute